
“শিরক কী ও কেন” গ্রন্থটি প্রখ্যাত ইসলামি গবেষক ড. মুহাম্মদ মুযাম্মিল আলি রচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাধর্মী গ্রন্থ। এটি আধুনিক সমাজে প্রচলিত শিরক ও বেদ‘আত-এর বাস্তব রূপ, কারণ ও প্রতিকার তুলে ধরে। গ্রন্থটি মূলত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ায় সম্পাদিত তাঁর পিএইচডি গবেষণার অংশ, যা বাংলা ভাষায় সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর প্রতিটি অধ্যায়ে তাওহীদের মৌলিক ধারণা, শিরকের সংজ্ঞা, ইতিহাস ও সমকালীন সমাজে এর প্রকাশভঙ্গি নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা রয়েছে। এই বইটি প্রত্যেক মুমিনের জন্য তাওহীদের সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং ইসলামকে সকল ধরনের অপবিত্রতা থেকে মুক্ত রাখার এক মূল্যবান দলিল।
📜 প্রেক্ষাপট: তাওহীদ ও সতর্কবাণী
লেখক তাঁর গ্রন্থের সূচনায় উল্লেখ করেছেন, সকল প্রশংসা সেই মহান আল্লাহর জন্য, যিনি একমাত্র উপাস্য ও প্রতিপালক। মানবজাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য আল্লাহ যুগে যুগে নবী-রাসূল প্রেরণ করেছেন, যাঁদের মাধ্যমে মানুষকে তাওহীদের দীক্ষা এবং শিরক থেকে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় মানুষ শয়তানের প্ররোচনায় পুনরায় শিরক ও বিভ্রান্তির পথে ফিরে গেছে।
আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহীদ হচ্ছে ইসলামের মূল ভিত্তি, যা ব্যতীত কোনো আমলই কবুল হয় না। অপরদিকে শিরক হচ্ছে সবচেয়ে বড় গুনাহ। এই ভয়াবহ বাস্তবতাকে সামনে রেখেই লেখক তাঁর গবেষণাকর্মের মাধ্যমে শিরকের প্রকৃতি ও কারণ বিশ্লেষণ করেছেন, যেন মুসলিম সমাজ এই মারাত্মক আত্মিক রোগ থেকে রক্ষা পায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন: “নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না। এ ছাড়া অন্য সব গুনাহ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন।” — (সূরা নিসা: ৪:৪৮)
🕌 বিষয়বস্তুর সারসংক্ষেপ ও বিশ্লেষণ
এই গ্রন্থের আলোচনায় লেখক সুবিন্যস্তভাবে ব্যাখ্যা করেছেন:
- তাওহীদ — একমাত্র আল্লাহর একত্ববাদ, যা সকল ঈমানের ভিত্তি এবং মুমিনের জীবনের মূল লক্ষ্য। এটি তিন প্রকার: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ এবং তাওহীদুল আসমা ওয়াছ ছিকাত।
- শিরক — আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক করা, যা ঈমান ও আমলকে সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট করে দেয়। শিরক দুই প্রকার: শির্ক-ই আকবর (বড় শিরক) ও শির্ক-ই আসগর (ছোট শিরক)।
- শয়তানের ভূমিকা — মানুষকে সরল পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য শয়তান নানা অপকৌশল গ্রহণ করে, যার প্রধানতম কৌশল হলো শিরকের দিকে ধাবিত করা।
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট — আদম, নূহ, হুদ ও সালেহ (আ.)-এর জাতিগুলির মতো কুরাইশ ও পরবর্তী যুগের মানুষও কীভাবে শিরকে লিপ্ত হয়েছে তার ঐতিহাসিক বিবরণ।
- সমকালীন অবস্থা — আজকের সমাজেও মাযারপূজা, পীর-অলিদের অতিরঞ্জিত শ্রদ্ধা, তাগা পরিধান, ভাগ্য গণনা ও বিভিন্ন কুসংস্কার কীভাবে শিরকের আধুনিক রূপ নিয়ে বিদ্যমান রয়েছে।
📖 লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি ও কুরআন-হাদীসের প্রমাণ
লেখক ড. মুহাম্মদ মুযাম্মিল আলি দৃঢ়ভাবে বলেন, শিরক এমন এক আত্মঘাতী অপরাধ যা আল্লাহ ক্ষমা করেন না, যদি তাওবা ছাড়া মৃত্যু ঘটে। এটি মানুষের ঈমান ধ্বংস করে দেয় এবং তার সকল সৎকর্মকে নিস্ফল করে দেয়। লেখক এই বিষয়ে কুরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়াত দিয়ে সতর্ক করেছেন:
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে সতর্ক করেছেন: ﴿قُلۡ هَلۡ نُنَبِّئُكُم بِٱلۡأَخۡسَرِينَ أَعۡمَٰلًا﴾ — “বলুন, আমি কি তোমাদের জানাব সেইসব লোকদের কথা, যাদের কর্ম সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত?” [সূরা কাহফ ১৮:১০৩]
এই আয়াতের আলোকে লেখক বিশ্লেষণ করেছেন যে, মানুষ কখনও কখনও ভুলভাবে মনে করে তারা সৎকর্ম করছে, অথচ বাস্তবে তারা শিরকে লিপ্ত হচ্ছে। এটিই সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত কর্ম। এভাবেই শয়তান তার প্রাচীন সংকল্প পূরণ করে — মানুষকে আল্লাহর সরল পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং তাদের আমলকে নিষ্ফল করে তোলে।
🧭 গবেষণার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য
লেখক তাঁর গবেষণার মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন — সমাজে প্রচলিত শিরক ও বেদ‘আতের উৎস, ধরণ ও প্রতিকার নিয়ে মুসলিম সমাজকে সচেতন করা। তাঁর মতে, মুসলমানদের প্রকৃত মুক্তি ও সফলতা নিহিত রয়েছে তাওহীদের সঠিক ধারণা ও চর্চায়। ড. মুযাম্মিল আলি মনে করেন, মুসলিমদের মাঝে শিরকের অনুপ্রবেশের প্রধান কারণ হলো ইলমের (জ্ঞান) অভাব এবং ইসলামের মৌলিক সূত্রগুলো থেকে বিচ্যুতি। তাই প্রতিটি মু’মিনের দায়িত্ব হলো শিরককে চিহ্নিত করা, তা থেকে কঠোরভাবে দূরে থাকা এবং অন্যদেরও এ থেকে রক্ষা করা। বইটি মানুষকে তাওহীদের দিকে ফিরে আসার জন্য অনুপ্রাণিত করে।
📘 গ্রন্থের অনন্য বৈশিষ্ট্য
ড. মুহাম্মদ মুযাম্মিল আলি রচিত এই গ্রন্থটি তার গবেষণামূলক গভীরতা ও সরল উপস্থাপনার কারণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- আধুনিক প্রেক্ষাপটে শিরকের বিশ্লেষণমূলক উপস্থাপনা এবং সমাজে এর বর্তমান রূপের চিহ্নিতকরণ।
- আরবি কুরআনের আয়াত এবং সহীহ হাদীসের নির্ভুল ও প্রমাণনির্ভর ব্যাখ্যা ও ব্যবহার।
- বাংলা ভাষায় সাধারণ পাঠকের জন্য জটিল বিষয়কে সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করা।
- অকাডেমিক গবেষণা এবং বাস্তব সমাজ বিশ্লেষণের মধ্যে সফল সমন্বয়।
- তাওহীদ রক্ষার জন্য ব্যক্তিগত ও সামাজিক করণীয়র সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা।
- শিরকের পরিণাম সম্পর্কে বিস্তারিত সতর্কবাণী।
💡 পাঠকের জন্য অনুপ্রেরণা
এই বইটি কেবল একটি ধর্মীয় পাঠ নয়, বরং এটি আত্মবিশুদ্ধি ও ঈমান রক্ষার জন্য একটি জরুরি আহ্বান। লেখক পাঠককে স্মরণ করিয়ে দেন—তাওহীদ প্রতিষ্ঠাই মু’মিন জীবনের মূল লক্ষ্য, আর শিরক থেকে দূরে থাকা ইহকাল ও পরকালীন মুক্তির পূর্বশর্ত। তিনি জোর দেন যে, জ্ঞানের মাধ্যমেই কেবল শিরক থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। এই বইটি তাই তরুণ শিক্ষার্থী, গবেষক, আলেম এবং সাধারণ মুসলিম—সব শ্রেণির পাঠকের জন্য অপরিহার্য, যারা আল্লাহর সাথে একনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়তে চান।
উপসংহার উক্তি: “শিরক হচ্ছে মানুষের হৃদয়ে জন্ম নেওয়া এক নীরব ঘাতক, যা আমলকে ধ্বংস করে দেয়। তাওহীদের আলো দ্বারাই কেবল একে প্রতিহত করা সম্ভব।” — ড. মুহাম্মদ মুযাম্মিল আলি
📂 পিডিএফ ডাউনলোড লিংক
ড. মুহাম্মদ মুযাম্মিল আলি রচিত “শিরক কী ও কেন” pdf বই ডাউনলোড করতে নিচে বইয়ের নামের উপর ক্লিক করুন।
সংগ্রহ: বইগুলি আপনার ভালো লাগলে দয়াকরে নিকটবর্তী লাইব্রেরী থেকে ক্রয় করুন।
আবার ভিজিট করবেন !!! ধন্যবাদ 💚




