
মুহাম্মদ মুফীজুল ইসলাম কর্তৃক রচিত ইসলামিক pdf বই ডাউনলোড করতে নিচের নামের উপর ক্লিক করুন।
১। যে গল্পে হৃদয় গলে
২। যে গল্পে হৃদয় গলে
৩। যে গল্পে হৃদয় গলে
৪। যে গল্পে অশ্র ঝরে
৫। যে গল্প হৃদয় কাড়ে
৬। যদি এমন হতাম
৭। ঈমানদীপ্ত কাহিনী
৮। অশ্র ভেজা কাহিনী
৯। যে গল্পে হৃদয় জুড়ে
১০। যে গল্পে হৃদয় কাঁদে
১১। হারানো দিনের সোনালী কাহিনী
১২। হৃদয়স্পর্শী শিক্ষণীয় কাহিনী
১৩। সাড়া জাগানো সত্য কাহিনী
১৪। সোনালী সংসার
১৫। নারী জীবনের চমৎকার কাহিনী
১৬। যে গল্পে হৃদয় কাঁপে
১৭। যে গল্পে হৃদয় গড়ে
✍️ লেখক | শিক্ষাবিদ | দাঈ | আত্মশুদ্ধির সাধক
মুহাম্মদ মুফীজুল ইসলাম (জন্ম: ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩) বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট ইসলামি লেখক, শিক্ষক ও দাওয়াতি কর্মী। তিনি মূলত তাঁর দীর্ঘ ধারাবাহিক সাহিত্যকর্ম “হৃদয় গলে সিরিজ”-এর জন্য সর্বাধিক পরিচিত। একাধারে শিক্ষাবিদ, মাদরাসা পরিচালক ও লেখক হিসেবে তিনি দেশের দ্বীনি শিক্ষা ও সাহিত্য জগতে বিশেষ অবদান রেখেছেন।
“লেখকের কলম যখন মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে, তখন তা কেবল গল্প নয়; বরং জীবন বদলে দেওয়ার দাওয়াত হয়ে ওঠে।” – মুহাম্মাদ মুফিজুল ইসলাম
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা
১৯৭৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার ভাদুঘর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুহাম্মাদ মুফিজুল ইসলাম। শৈশব থেকেই তিনি দ্বীনি চেতনায় বেড়ে ওঠেন। স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালেই দাওয়াহ ও দ্বীনি কাজের সাথে সম্পৃক্ত হন। আলেমদের মর্যাদা ও ফজিলত সম্পর্কে শুনে তাঁর অন্তরে গভীর আকাঙ্ক্ষা জাগে একজন আলেম হওয়ার। এইচএসসি পরীক্ষার পর তিনি ঢাকার মাদরাসা দারুর রাশাদ-এ ভর্তি হন। জেনারেল শিক্ষায় মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি তিনি কওমি মাদরাসার শিক্ষা লাভ করেন এবং ১৯৯৫ সালে সফলভাবে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৯৬ সালে তিনি চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসা-তে কয়েক মাস বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন।
“আলেম হওয়া মানে কেবল জ্ঞান অর্জন নয়; বরং তা জীবনে ধারণ করে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া।” – মুফিজুল ইসলাম
কর্মজীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনা
মুহাম্মাদ মুফিজুল ইসলামের কর্মজীবন শুরু হয় ১৯৯৬ সালে, যখন তিনি মাদরাসা দারুর রাশাদ-এ শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি ধারাবাহিকভাবে নরসিংদীর বিভিন্ন মাদরাসায় দায়িত্ব পালন করেন।
শিক্ষকতা:
- দারুল উলুম দত্তপাড়া – শিক্ষকতা
- আয়েশা সিদ্দিকা মহিলা মাদরাসা – শিক্ষকতা
- নূরিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা – শিক্ষকতা
- তালীমুল কুরআন হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানা – বর্তমানে পরিচালক
আত্মশুদ্ধির সাধনা: আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি ও তাজকিয়ার জন্য তিনি ২০০৩ সালে জামিয়াতু ইবরাহীম, সাইনবোর্ড-এর প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস মুফতি শফিকুল ইসলাম দামাত বারাকাতুহুম-এর নিকট আত্মশুদ্ধির সবক নেন। ২০১৭ সালে তিনি তাঁর অনুমোদিত খলীফা হিসেবে স্বীকৃতি পান।
সাহিত্যকীর্তি ও হৃদয় গলে সিরিজ
মুহাম্মাদ মুফিজুল ইসলাম বাংলাদেশের সমকালীন ইসলামি সাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য নাম। তাঁর সবচেয়ে বড় কীর্তি হলো ধারাবাহিক “হৃদয় গলে সিরিজ”। ২০০২ সালের অক্টোবরে “যে গল্পে হৃদয় গলে” বইটির মাধ্যমে সিরিজটির যাত্রা শুরু হয় এবং এরপর থেকে তিনি দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
হৃদয় গলে সিরিজ:
- ২০০২ সালে শুরু
- এ পর্যন্ত ৮৫টি বই প্রকাশিত
- লেখকের ইচ্ছানুযায়ী ১০০তম বইতে সিরিজ সমাপ্ত হবে
- বাংলা ভাষার ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ও জনপ্রিয় ধারাবাহিক গল্পগ্রন্থ
অন্যান্য গ্রন্থ:
- উস্তাদ শাগরেদের হক ও তরবীয়তের তরীকা (প্রথম প্রকাশ, আল কাউসার প্রকাশনী, ১৯৯৭)
- বিভিন্ন ইসলামি বিষয়ক প্রবন্ধ সংকলন
- কিছু অনুবাদ গ্রন্থ
“হৃদয় গলে সিরিজ আমাদের সাহিত্যে এমন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, যা পাঠকের চোখে অশ্রু আর মনে অনুপ্রেরণা জাগায়।” – পাঠক প্রতিক্রিয়া
চিন্তাধারা ও প্রভাব
তাঁর চিন্তাধারার মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো দাওয়াহ, আত্মশুদ্ধি ও ইসলামি আদর্শের বাস্তবায়ন। তিনি বিশ্বাস করেন সাহিত্য কেবল বিনোদন নয়; বরং এটি একটি দাওয়াতি মাধ্যম, যা মানুষের অন্তর পরিবর্তন করতে পারে। তাঁর লেখনী তরুণ প্রজন্মের হৃদয়ে নৈতিকতা, ইমান ও সমাজসচেতনতার বার্তা জাগ্রত করে। বাংলাদেশের ইসলামি শিক্ষা ও সাহিত্য জগতে তাঁর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। শিক্ষকতা, মাদরাসা পরিচালনা ও সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে তিনি হাজারো ছাত্র, পাঠক ও ভক্তকে প্রভাবিত করেছেন এবং “হৃদয় গলে সিরিজ”-এর কারণে বাংলা সাহিত্য জগতে একটি অনন্য ধারার সৃষ্টি হয়েছে।
উপসংহার ও উত্তরাধিকার
মুহাম্মাদ মুফিজুল ইসলাম কেবল একজন আলেম নন; বরং তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, লেখক ও দাঈ। তাঁর জীবনদর্শন ও সাহিত্যকর্ম প্রমাণ করে ইসলামি মূল্যবোধ ও দাওয়াহ আধুনিক যুগেও পাঠকের হৃদয় ছুঁতে সক্ষম। ভবিষ্যতে তাঁর চিন্তা ও রচনা বাংলাদেশসহ বিশ্ব মুসলিম সমাজে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।





