
জালালুদ্দিন আবদুর রহমান সুয়ূতি কর্তৃক রচিত ইসলামিক pdf বই ডাউনলোড করতে নিচে নামের উপর ক্লিক করুন।
১। আরশের ছায়ায় থাকবে যাদের কায়া
২। খাসায়েসুল কুবরা ১ম খণ্ড
৩। খাসায়েসুল কুবরা ২য় খণ্ড
৪। জাগ্রত অবস্থায় জিয়ারতে মোস্তফা (সাঃ)
৫। জ্বিন জাতির বিস্ময়কর ইতিহাস
৬। তানবিরুল হালাক ফী ইমকানি রুইয়াতিন নাবীয়ী ওয়াল মালাক
৭। তারীখুল খুলাফা
৮। দোযখের আযাব ও বেহেশতের সুখ শান্তি
৯। দোয়া কিভাবে কবুল হয়
১০। নবী করিম (ﷺ) এর ওসীয়ত
১১। নবী বংশের মর্যাদা সম্পর্কিত ৬০ হাদিস
১২। নবীগণ (আঃ) স্বশরীরে জীবিত
১৩। মরনের পরে কি হবে বা দোযখের আযাব ও বেহেশতের সুখ শান্তি
১৪। বিচারনীতিতে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর বিশেষত
১৫। বিশ্বনবী সাঃ এর এলমে গায়েব
১৬। মুমিনের কবর জীবন
১৭। হযরত আয়েশা রাঃ
১৮। হাদিসের আলোকে রুজী বৃদ্ধির আমল
১৯। হায়াতুল আম্বিয়া (আঃ)
২০। হুসনুল মাকসিদ ফি আমালিল মাওলিদ
২১। তাফসীরে জালালাইন
✍️ বিশিষ্ট ইসলামি পণ্ডিত | মুহাদ্দিস | মুফাসসির | উর্বর লেখক
আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (র) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম প্রভাবশালী আলেম, গবেষক ও লেখক। তাঁর প্রকৃত নাম ছিল আবদুর রহমান, উপাধি জালালুদ্দীন এবং কুনিয়াত ছিল আবুল ফজল। তাঁর বিস্তৃত জ্ঞান, তাফসীর, হাদীস ও ফিকহে গভীর ব্যুৎপত্তি তাঁকে মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। তিনি একই সাথে একজন মুফাসসির, মুহাদ্দিস, ফকীহ, ভাষাবিদ ও উর্বর গ্রন্থকার ছিলেন।
“আল্লাহ আমাকে তাফসীর, হাদীস, ফিকহ এবং আরবি ভাষার সাতটি শাখায় বিশেষ ব্যুৎপত্তি দান করেছেন।” – আল্লামা সুয়ূতী
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা
আল্লামা সুয়ূতী ৮৪৯ হিজরির ১ রজব বাদ মাগরিব নীল নদের তীরবর্তী মিসরের সুয়ূত শহরের খিযর মহল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। সেই শহরের অধিবাসী হওয়ায় তাঁর নামের শেষে “সুয়ূতী” যুক্ত হয়। তিনি শৈশবে পিতাহারা হন; মাত্র পাঁচ বছর সাত মাস বয়সে তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। তবুও তিনি অল্প বয়সেই কুরআন হিফজ ও প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। আট বছর বয়সে কুরআন হিফজ সমাপ্ত করেন এবং এরপর উমদাহ, মিনহাজ, উসূল ও ইবনে মালেক প্রভৃতি গ্রন্থ মুখস্থ করেন। তাঁর শিক্ষকের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫১ জন, যার মধ্যে শায়খ শামস সায়রামী, শায়খ শামস মিরযামানী হানাফী এবং সাইফুদ্দীন আল মানাবীর নাম উল্লেখযোগ্য।
“শিক্ষা শুধু মুখস্থ বিদ্যা নয়; বরং তা মানুষকে জ্ঞানী, বিনয়ী ও আলোকিত করে।” – আল্লামা সুয়ূতী
কর্মজীবন ও গবেষণা
শিক্ষা সমাপ্তির পর ৮৭১ হিজরিতে মাত্র ষোলো বছর বয়সে তিনি ফতোয়া প্রদান শুরু করেন। ৮৭২ হিজরিতে তিনি হাদিস সংকলনে আত্মনিয়োগ করেন। আরবি ভাষা শিক্ষাদানের সনদ তিনি ৮৬৬ হিজরিতেই লাভ করেন। তিনি হাদিস, তাফসীর, ফিকহ, নাহু, বালাগাতসহ ইসলামের প্রায় সব শাখায় অসামান্য দক্ষ ছিলেন এবং তাঁর যুগে সবচেয়ে বড় মুহাদ্দিস হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি দু’লক্ষেরও বেশি হাদিস মুখস্থ করেছিলেন। ৪০ বছর বয়সে তিনি জগতীয় কাজ থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং নির্জনে ইবাদত ও রিয়াযতে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি দুনিয়াবিমুখ ছিলেন এবং শাসক বা ধনী ব্যক্তিদের উপহার প্রত্যাখ্যান করতেন।
রচনাবলী ও অবদান
আল্লামা সুয়ূতী ছিলেন অত্যন্ত উর্বর লেখক। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ৫০০-এরও বেশি। প্রতিদিন গড়ে ১৬ পৃষ্ঠার বেশি লিখতেন বলে সমসাময়িকরা উল্লেখ করেছেন। তাফসীর, হাদীস, ফিকহ, আরবি সাহিত্য, ইতিহাস ও আধ্যাত্মিকতা – সব বিষয়ে তাঁর রচনাবলী বিদ্যমান।
প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলি:
- তাফসীর আল-জালালাইন – আল্লামা মহল্লীর অসমাপ্ত কাজ তিনি মাত্র ৪০ দিনে সম্পন্ন করেন।
- আল-ইতকান ফি উলূমিল কুরআন – কুরআনের বিজ্ঞানের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থসমূহের একটি।
- আল-জামিউস সাগীর – হাদীস সংকলন।
- আল-দুররুল মানসুর – তাফসীর গ্রন্থ।
- তারিখুল খোলাফা – খলিফাদের ইতিহাস।
“সুয়ূতীর লেখনীর বৈশিষ্ট্য হলো তিনি জটিল বিষয়কেও সহজ ভাষায় উপস্থাপন করতে পারতেন।” – সমালোচক মতামত
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
ইলমে তাফসীর ও হাদিসের এই মহান সেবক ৯১১ হিজরির ২৯ জমাদিউল আউয়াল শুক্রবার ৬২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুতে মুসলিম উম্মাহ এক অমূল্য সম্পদ হারায়। আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী (র) ছিলেন ইসলামের ইতিহাসে অনন্য একজন আলেম, গবেষক ও লেখক। তাঁর জ্ঞান, দাওয়াহ, লেখনী ও ত্যাগ মুসলিম উম্মাহকে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে। তিনি প্রমাণ করে গেছেন, ইলম শুধু বইতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা মানুষের জীবনকে আলোকিত করার জন্য।
আরও পড়ুন
👉 ইসলামিক বই সমাহার
👉 Wikipedia – Al-Suyuti
সংগ্রহ: বইগুলি আপনার ভালো লাগলে দয়াকরে নিকটবর্তী লাইব্রেরী থেকে ক্রয় করুন।
আবার ভিজিট করবেন !!! ধন্যবাদ 💚





