
সাইয়েদ কুতুব রচিত pdf বই ডাউনলোড করতে নিচে বইয়ের নামের উপর ক্লিক করুন।
১। আগামী দিনের জীবন বিধান
২। আগামী বিপ্লবের ঘোষানা পত্র
৩। আমরা কি মুসলমান
৪। আল কুরআনের শিল্পিক সৌন্দর্য
৫। ইসলাম ও নারী
৬। ইসলাম ও সামাজিক সুবিচার
৭। ইসলাম কমিউনিজম ও পুঁজিবাদ
৮। ইসলামী আন্দোলন সংকট ও সম্ভাবনা
৯। ইসলামী সমাজ বিপ্লবের ধারা
১০। ইসলামে প্রশিক্ষণ পদ্ধতি
১১। ইসলামের স্বর্ণযুগে সামাজিক ন্যায়নীতি
১২। কালজয়ী আদর্শ ইসলাম
১৩। কুরআনের সংক্ষিপ্ত আলোচনা
১৪। জিহাদ
১৫। বিংশ শতাব্দীর জাহেলিয়াত
১৬। বিশ্ব শান্তি ও ইসলাম
১৭। ভ্রান্তির বেড়াজালে ইসলাম
১৮। মুজাহিদের আযান
১৯। ফী যিলালিল কোরআন
✍️ প্রখ্যাত ইসলামিক চিন্তাবিদ | লেখক | শহীদ দাঈ
সাইয়েদ কুতুব (১৯০৬–১৯৬৬) ২০শ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী মুসলিম চিন্তাবিদ, যিনি কুরআন, ইসলামী সমাজব্যবস্থা, ন্যায়বিচার ও তাওহীদভিত্তিক সভ্যতার ধারণাকে নতুনভাবে বিশ্লেষণ করেছিলেন। তাঁর রচনাবলি বহু দেশের ইসলামি আন্দোলনের তাত্ত্বিক ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। তিনি সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও জীবনের শেষাংশে পূর্ণমাত্রায় ইসলামী দাওয়াহ, গবেষণা ও সমাজ পরিবর্তনের কাজে যুক্ত হন। তাঁর চিন্তাধারা আজও বিশ্বের অসংখ্য মুসলিম তরুণকে প্রভাবিত করছে।
“ইসলাম কেবল কিছু আচার-অনুষ্ঠান নয়; এটি মানুষের আত্মা, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী গঠনের সম্পূর্ণ জীবনদর্শন।” – সাইয়েদ কুতুব
প্রারম্ভিক জীবন
সাইয়েদ কুতুব জন্মগ্রহণ করেন মিশরের আসিউত প্রদেশের মুশা গ্রামে। তাঁর পরিবার ছিল মধ্যবিত্ত, ধর্মপরায়ণ এবং শিক্ষানুরাগী। অল্প বয়সেই তিনি কুরআন মুখস্থ করেন এবং স্থানীয় মসজিদে কুরআনের শিক্ষক হিসেবে পরিচিতি পান। শৈশবের গ্রামীণ জীবন তাঁর হৃদয়ে দারিদ্র্য, বৈষম্য ও সামাজিক অবিচারের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে—যা পরবর্তীতে তাঁর লেখা ও চিন্তায় গভীর প্রভাব ফেলে। ছোটবেলা থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী এবং পর্যবেক্ষণশীল ছিলেন।
শিক্ষাজীবন ও সাহিত্যচর্চা
প্রাথমিক পড়াশোনা শেষে তিনি কায়রোতে আধুনিক শিক্ষার জন্য ভর্তি হন। সেখানে তিনি সাহিত্য, দর্শন ও ইংরেজি ভাষা অধ্যয়ন করেন। ১৯৩৩ সালে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে পাশ্চাত্য সাহিত্য, উপন্যাস ও দর্শনের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ জন্মে।
তিনি কৈশোর থেকেই কবিতা লিখতেন। তাঁর প্রথম দিককার জীবন ছিল একজন সাহিত্য বিশ্লেষক, কবি ও সমালোচকের জীবন। কিন্তু সাহিত্যচর্চার মধ্যেই তিনি উপলব্ধি করেন যে শুধু সাহিত্য সমাজকে প্রকৃত পরিবর্তন এনে দিতে পারে না।
এই সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষামূলক সফরে যান। সেখানে তিনি পাশ্চাত্য সমাজের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দেখলেও নৈতিক পতন তাঁকে ব্যথিত করে। যুক্তরাষ্ট্রে কাটানো সময় তাঁর চিন্তাজগৎ সম্পূর্ণ পরিবর্তন করে দেয় এবং তিনি উপলব্ধি করেন যে ইসলামের বিকল্প কোনো সভ্যতা নেই।
“আমি পশ্চিমে অগ্রগতি দেখেছি, কিন্তু তাদের হৃদয় শূন্য দেখেছি। আরবের মরু আমাকে যে দৃঢ়তা দিয়েছে, পশ্চিম সেটি নিতে পারেনি।” – সাইয়েদ কুতুব
কর্মজীবন ও আন্দোলনের পথে যাত্রা
বিদ্যাশেষে তিনি শিক্ষকতা শুরু করেন এবং সরকারি চাকরিতেও যুক্ত ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি দেখেন যে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা ইসলামের আদর্শ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, তখন তিনি সাহিত্য থেকে সরে এসে ইসলামী আন্দোলনের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
১৯৫০-এর দশকে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত হন। সংগঠনের নীতি-আদর্শ, সামাজিক সংস্কার এবং কুরআনভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার ব্যাখ্যা তুলে ধরতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর লেখাগুলো মুসলিম ব্রাদারহুড আন্দোলনের চিন্তাগত ভিত্তিকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
রচনাবলী
সাইয়েদ কুতুব একজন বহুমাত্রিক চিন্তাবিদ ছিলেন। তাঁর গ্রন্থসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- Fi Zilal al-Qur’an – কুরআনের অন্যতম জনপ্রিয় ও হৃদয়স্পর্শী তাফসির।
- Ma’alim fi al-Tariq – ‘পথের দিশারী’, ইসলামি আন্দোলনের পথনির্দেশক গ্রন্থ।
- Al-Adala al-Ijtimaiyya fi al-Islam – সামাজিক ন্যায়বিচার বিষয়ে যুগান্তকারী রচনা।
তাঁর বইগুলো অসংখ্য ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং ইসলামি আন্দোলনের কর্মীদের জন্য দিশারী হিসেবে আজও ব্যবহৃত হচ্ছে।
চিন্তাধারা
তাঁর চিন্তার কেন্দ্র ছিল আল্লাহর সার্বভৌমত্ব (হাকিমিয়্যাতুল্লাহ)। তিনি মনে করতেন, মানুষকে আল্লাহর বিধান অনুসরণ করেই চলতে হবে। আধুনিক সমাজগুলোর সমস্যা হলো তারা জাহেলিয়াতের মতোই আল্লাহর পথ ভুলে গেছে। তাঁর মতে, কুরআনের আলো ফিরে না এলে সমাজ কখনো টেকসই ন্যায় ও শান্তি পেতে পারে না। তিনি ইসলামী রাষ্ট্র, নৈতিকতা, শিক্ষা ও সামাজিক পরিবর্তনের জন্য কুরআনকেন্দ্রিক বিপ্লবী ধারণা তুলে ধরেন।
“যেখানে মানুষ আল্লাহর বিধান পরিত্যাগ করে, সেখানে অন্ধকার নেমে আসে। কুরআনই মানুষের প্রকৃত মুক্তির আলো।” – সাইয়েদ কুতুব
কারাবাস ও শহীদী মৃত্যু
১৯৫৪ সালে মিশরের সামরিক সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে। কারাগারে অমানবিক নির্যাতনের পরও তিনি নিজের অবস্থান থেকে একচুল সরেননি।
১৯৬৬ সালের ২৯ আগস্ট ভোরে তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। মৃত্যুর মুহূর্তে তিনি ছিলেন দৃঢ়চিত্ত, শান্ত ও আল্লাহর উপর নির্ভরশীল। মুসলিম বিশ্ব তাঁকে একজন শহীদ ও সত্যনিষ্ঠ চিন্তাবিদ হিসেবে স্মরণ করে।
উত্তরাধিকার
সাইয়েদ কুতুব মুসলিম তরুণদের মাঝে আত্মপরিচয়, ঈমানদারিত্ব এবং ইসলামী আদর্শের প্রতি দৃঢ়তা জাগিয়ে তুলেছেন। তাঁর তাফসির, সাহিত্য ও চিন্তাধারা বিশ্বজুড়ে ইসলামি পুনর্জাগরণে আজও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আরও পড়ুন
👉 হাদিস শরীফ
👉 সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী
সংগ্রহ: বইগুলি আপনার ভালো লাগলে দয়াকরে নিকটবর্তী লাইব্রেরী থেকে ক্রয় করুন।
আবার ভিজিট করবেন !!! ধন্যবাদ 💚





