সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী: Syed Abul Hasan Ali Nadwi Books

সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী

সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.-এর রচিত pdf বই ডাউনলোড করতে নিচে বইয়ের নামের উপর ক্লিক করুন।

১। আমার আম্মা
২। আরব জাতি ইসলামের পূর্বে ও পরে
৩। আলোর রাজপথ
৪। আল্লাহর পথের ঠিকানা
৫। ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার দ্বন্দ
৬। ইসলাম ধর্ম, সমাজ, সংস্কৃতি
৭। ইসলামী রেনেসাঁর অগ্রপথিক
৮। ঈমান ও বস্তুবাদের সংঘাত
৯। ঈমান যখন জাগলো
১০। ঈমানদীপ্ত কিশোর কাহিনী
১১। ঈমানের দাবী
১২। ওলী আল্লাহদের মা
১৩। কাদিয়ানী সম্প্রদায় তত্ত্ব ও ইতিহাস
১৪। কাদিয়ানীদের স্বরূপ
১৫। কাবুল থেকে আম্মান
১৬। কারওয়ানে মদিনা
১৭। কারওয়ানে যিন্দেগী
১৮। জীবন পথের পাথেয়
১৯। তাজা ঈমানের ডাক
২০। তারুণ্যের প্রতি হৃদয়ের তপ্ত আহবান
২১। ধর্ম ও কৃষ্টি
২২। নতুন তুফান ও তার প্রতিরোধ
২৩। নতুন দাওয়াত নতুন পয়গাম
২৪। নতুন পৃথিবীর জন্মদিবস

২৫। নবীয়ে রহমত
২৬। নবুয়ত ও আম্বিয়া-ই কিরাম
২৭। নয়া খুন
২৮। নির্বাচিত আরবী সাহিত্য সংকলন
২৯। পশ্চিমা বিশ্বের নামে খোলা চিঠি
৩০। প্রাচ্যের উপহার
৩১। বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুসলমানদের করণীয়
৩২। বিধ্বস্ত মানবতা
৩৩। বিশ্ব সভ্যতায় রসূলে আকরাম
৩৪। ভারতবর্ষে মুসলমানদের অবদান
৩৫। মধ্যপ্রাচ্যের ডায়েরী
৩৬। মহানবী সাঃ ও সভ্য পৃথিবীর ঋণ স্বীকার
৩৭। মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কি হারালো
৩৮। মুসলিম বিশ্বে ইসলাম ও পাশ্চাত্য সভ্যতার দ্বন্দ্ব
৩৯। রিসালাতে মুহাম্মদী ও বর্তমান পশ্চিমা বিশ্ব
৪০। সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস
৪১। সাত যুবকের গল্প
৪২। সীরাতে রসূল আকরাম (সা.)
৪৩। হজরত খাজা নিজামুদ্দীন আওলিয়া রহঃ
৪৪। হযরত আলী রা. জীবন ও খেলাফত
৪৫। হযরত মুজাদ্দিদ আলফে ছানী রহ.
৪৬। হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ্ দেহলবী
৪৭। হায়াতে শায়খুল হাদীছ মাওলানা যাকারিয়া

✍️ ইসলামি চিন্তাবিদ | লেখক | ঐতিহাসিক | দাঈ

সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ. (৫ ডিসেম্বর ১৯১৩ – ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯৯) ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামি চিন্তাবিদ, লেখক, ঐতিহাসিক ও দাঈ। তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ মুসলিম বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক জগতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। সাধারণ মানুষ তাঁকে স্নেহভরে ডাকতেন আলী মিয়াঁ নামে। তিনি শুধু ইসলামী জ্ঞানচর্চার প্রবর্তক ছিলেন না; বরং মানুষের হৃদয়ে আলোকবর্তিকা জ্বালানোর এক অক্লান্ত সাধক ছিলেন।

“তিনি শুধু একজন লেখক নন, বরং এমন একজন দূরদর্শী দাঈ, যিনি কলম, কণ্ঠ ও কর্মের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহকে নতুন চেতনা ফিরিয়ে আনতে চেয়েছেন।”

প্রারম্ভিক জীবন ও পরিবার

১৯১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ভারতের উত্তর প্রদেশের রায়বেরেলি জেলার এক সম্মানিত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আলী নদভী রহ.। তাঁর পিতা সাইয়েদ আবদুল হাই ও মাতা খায়রুন্নেসা ছিলেন হযরত হাসান (রা.)-এর বংশধর। অল্প বয়সেই পিতৃহারা হওয়ায় বড় ভাই এবং মায়ের আদর্শিক বোধে তিনি বেড়ে ওঠেন। পারিবারিক পরিবেশ ছিল ধর্মপ্রাণ, শান্ত এবং জ্ঞানচর্চার অনুকূল—যা তাঁর ভবিষ্যৎ জীবনের চরিত্র গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

শিক্ষাজীবন

শৈশবে মায়ের কাছে কোরআন, উর্দু ও আরবি শিক্ষা লাভ করেন। ১৯২৪ সালে শায়খ খলীল বিন মুহাম্মদ আল আনসারীর কাছে আরবি শেখা শুরু করেন এবং ১৯২৬ সালে ভর্তি হন নদওয়াতুল উলামায়। ১৯২৭ সালে লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উর্দু সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৩২ সালে লাহোরে আল্লামা আহমাদ আলী লাহোরীর কাছে কোরআনের পূর্ণাঙ্গ তাফসীর অধ্যয়ন করেন এবং পরে দেওবন্দে হুসাইন আহমাদ মাদানীর কাছে হাদিস শাস্ত্রের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

“তাঁর জ্ঞান অর্জন শুধুই পাঠ্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং ভ্রমণ, আলিমদের সাহচর্য ও গবেষণার সমন্বয়ে তাঁর জ্ঞানের দিগন্ত প্রসারিত হয়েছে।”

কর্মজীবন ও দাওয়াহ

১৯৩৪ সালে নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি তাফসীর, হাদিস, যুক্তিবিদ্যা ও ইতিহাস পড়াতে শুরু করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অনন্য অবদানের পাশাপাশি দাওয়াহ কার্যক্রমেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয়। বিশ্বজুড়ে ভ্রমণ করে মুসলিম সমাজে ঐক্য, আধ্যাত্মিকতা ও জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেন। ১৯৬২ সালে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত রাবেতাতুল আলামিল ইসলামী সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে তাঁর বক্তব্য বিশ্বমঞ্চে সাড়া ফেলে। ১৯৮০ সালে তিনি অক্সফোর্ড সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজের সভাপতি নির্বাচিত হন।

সংগঠন ও উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ড

  • ১৯৪৩: দীনী শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে আন্জুমানে তা’লীমাতে দীন প্রতিষ্ঠা।
  • ১৯৫১: পায়ামে ইনসানিয়্যাত আন্দোলন শুরু।
  • ১৯৫৪: নদওয়ার শিক্ষা বিভাগের পরিচালক নিযুক্ত।
  • ১৯৬৫: নদওয়াতুল উলামার মহাসচিব নির্বাচিত।
  • ১৯৫৯: ইসলামিক গবেষণা ও প্রকাশনা সংস্থা প্রতিষ্ঠা।

পুরস্কার ও সম্মাননা

  • ১৯৮০: বাদশাহ ফয়সল আন্তর্জাতিক পুরস্কার।
  • ১৯৮১: কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডক্টরেট।
  • ১৯৯৯: অক্সফোর্ড ইসলামিক সেন্টারের পক্ষ থেকে সুলতান ব্রুনাই অ্যাওয়ার্ড।
  • ১৯৯৯: দুবাইয়ে বর্ষসেরা আন্তর্জাতিক ইসলামী ব্যক্তিত্ব।

“সম্মাননা তাঁর কাছে ব্যক্তিগত অর্জন নয়; বরং তিনি অধিকাংশ অর্থ দান করতেন মানবকল্যাণে।”

রচনাবলী

মাত্র ১৭ বছর বয়সে তাঁর প্রবন্ধ মিসরের আল-মানার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা ৫০টিরও বেশি। বাংলা ভাষায় অনুদিত উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রয়েছে: মুসলমানদের পতনে বিশ্ব কী হারালো?, সংগ্রামী সাধকদের ইতিহাস, তালিবে ইলমের পাথেয়, ঈমান যখন জাগলো, সীরাতে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইত্যাদি।

চিন্তাধারা ও অবদান

আলী নদভীর চিন্তাধারায় তিনটি দিক সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয়—দাওয়াহর সর্বজনীনতা, আত্মশুদ্ধি এবং মানবকল্যাণ। তিনি বিশ্বাস করতেন যে ইসলাম কেবল ধর্মীয় আচার নয়; বরং মানবতার উন্নয়নের এক সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। তাঁর বক্তব্যে পশ্চিমা সভ্যতার আধ্যাত্মিক সংকটের বিশ্লেষণ এবং ইসলামের আলোকে মানবতার মুক্তির পথ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হতো।

“ইসলামই পারে মানুষের অন্তর্গত অন্ধকার দূর করে প্রকৃত মুক্তি দিতে।” — আলী নদভী

মৃত্যু ও উত্তরাধিকার

১৯৯৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর, শুক্রবার জুমার পূর্বে সূরা ইয়াসীন তিলাওয়াত করতে করতে তিনি ইন্তেকাল করেন। বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তাঁর মৃত্যু মুসলিম সমাজের জন্য গভীর বেদনার হলেও তাঁর রেখে যাওয়া দাওয়াহ, শিক্ষা ও রচনাবলী আজও বিশ্ব Muslim সমাজকে আলো দেখিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

👉 Biography – Syed Abul Hasan Ali Nadwi
👉 সাইয়েদ আবুল আলা মওদুদী

সংগ্রহ: বইগুলি আপনার ভালো লাগলে দয়াকরে নিকটবর্তী লাইব্রেরী থেকে ক্রয় করুন।
আবার ভিজিট করবেন !!! ধন্যবাদ 💚

error: Content is protected !!
Scroll to Top