
মুহাম্মাদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী কর্তৃক রচিত ইসলামিক pdf বই ডাউনলোড করতে নিচে নামের উপর ক্লিক করুন।
১। আপনার হজ্ব শুদ্ধ হচ্ছে কি
২। ইলমে হাদিসের গুরুত্ব ও মর্যাদা
৩। ইসলাম প্রচারক ভাই প্রথমে তাওহীদের দাওয়াত দিন
৪। ইসলাম বিরোধী আইন জারীর বিধান ও ফিতনাতুত তাকফীর
৫। ইসলামে হাদীসের গুরুত্ব ও মর্যাদা
৬। ঈদের সালাত ঈদগাহে পড়তে হবে কেন
৭। কবর ও মাজার সংলগ্ন মাসজিদে সালাত আদায়ে সতর্ক হোন
৮। তারাবীহ ও ইতিকাফ
৯। দাজ্জাল ! মাসীহ দাজ্জালের কিসসা
১০। নবী সাঃ যেভাবে হজ্জ করেছেন
১১। নয়টি প্রশ্নের উত্তর
১২। প্রত্যেক মাযহাবে সুন্নাহ বিরোধী ফাতওয়া আজ কেন বিদ্যামান
১৩। বাসর রাতের আদর্শ
১৪। মৃত্যু রোগ থেকে শুরু করে মৃত ব্যাক্তি কেন্দ্রিক মৃত্যের যাবতীয় করনীয় ও বর্জন
১৫। যঈফ ও মওজু হাদীসের সংকলন
১৬। রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায ১ম ও ২য় খণ্ড
১৭। সলাতুত তারাবীহ
১৮। সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি
✍️ বিশ্বখ্যাত মুহাদ্দিস | গবেষক | সংস্কারক | সালাফি চিন্তার অগ্রদূত
শাইখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানী (১৯১৪ – ১৯৯৯) আধুনিক যুগের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মুহাদ্দিস, যিনি হাদীস গবেষণা, তাখরীজ ও তাহকীকে নতুন দিক নির্দেশনা দেন। কুরআন ও সুন্নাহকে কেন্দ্র করে তাঁর জীবনব্যাপী অধ্যয়ন, দাওয়াহ এবং সংস্কারমূলক প্রচেষ্টা মুসলিম বিশ্বে সুন্নাহভিত্তিক চেতনাকে জাগিয়ে তোলে। আলবেনিয়া থেকে সিরিয়া, সেখান থেকে আরব বিশ্বের নানা দেশে তিনি জ্ঞান, সত্য ও হেদায়েতের আলো ছড়িয়ে দেন। দীনদার পরিবারে বেড়ে ওঠা আল-আলবানী ছোটবেলা থেকেই ইলমে আগ্রহী ছিলেন। ঘড়ি মেরামতের মাধ্যমে জীবিকা অর্জন করলেও হৃদয় ছিল একান্তভাবে হাদীসের সেবায় নিবেদিত। তাঁর গবেষণা পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম, নির্ভুল ও দলীলনির্ভর, যার কারণে তিনি সমগ্র ইসলামী জগতে বিশ্বস্ত হাদীস গবেষক হিসেবে পরিচিত হন।
“আমি হাদীসের সেবা ও তাহকীককে আমার জীবনের মূল কাজ বানিয়েছি।” – আল-আলবানী
প্রারম্ভিক জীবন ও পরিবারের পরিবেশ
১৯১৪ সালে আলবেনিয়ার স্কোডার শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা আলহাজ্ব নূহ ছিলেন একজন বিজ্ঞ আলেম এবং পরিবারের পরিচয় ছিল ধর্মভীরু ও শিক্ষানুরাগী। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ইসলামী শিক্ষার ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের কারণে পরিবারটি ১৯২৩ সালে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে হিজরত করে। নতুন পরিবেশে আল-আলবানীর শৈশব কেটেছে কুরআন অধ্যয়ন, আরবি ভাষা, তাজবিদ, নাহু-সরফ ও ফিকাহ শিক্ষার মাধ্যমে। পিতার বিশেষ যত্নে তিনি অল্প বয়সেই কুরআন হিফজ এবং ইসলামী মৌলিক বিদ্যার ওপর দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলেন।
শিক্ষাজীবন ও আত্মগঠন
দামেস্কে আল-আলবানীর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন খুব দীর্ঘ না হলেও স্বশিক্ষার মাধ্যমে তিনি বিস্ময়কর ইলমী যোগ্যতা অর্জন করেন। শাইখ সাঈদ আল-বুরহানী, মুহাম্মদ বাহজা আল-বাইতারসহ বহু বিশিষ্ট আলেমের দারসে অংশ নেন। জীবিকার পাশাপাশি অধ্যয়ন চালিয়ে যাওয়ার সুবিধার জন্য তিনি ঘড়ি মেরামতের কাজ বেছে নেন, যা সময়ের সদ্ব্যবহার ও মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে তাঁকে প্রচুর সাহায্য করে।
হাদীস গবেষণায় তাঁর যাত্রা
তাঁর হৃদয় হাদীসের প্রতি গভীর আকর্ষণে প্রভাবিত হয় আল-মানার পত্রিকার প্রবন্ধগুলো পড়ার পর। মাত্র কুড়ি বছর বয়সেই তিনি হাদীসের সনদ বিশ্লেষণ, রাবীসমূহের জীবনী এবং হাদীসের মান যাচাইয়ে উল্লেখযোগ্য যোগ্যতা অর্জন করেন। দামেস্কের বিখ্যাত জাহেরিয়া লাইব্রেরিতে তাঁকে বিশেষ গবেষণা কক্ষ প্রদান করা হয়, যেখানে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে হাজারো পান্ডুলিপি অধ্যয়ন করেন এবং বহু গ্রন্থের তাখরীজ ও তাহকীক সম্পন্ন করেন।
“হাদীস হলো আল্লাহর রাসূল ﷺ এর কথন, আর সেটি যাচাই করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য গৌরবের কাজ।” – আল-আলবানী
দাওয়াহ, শিক্ষাদান ও কারাবরণ
আল-আলবানী শুধু গবেষকই নন, বরং একজন শক্তিশালী বক্তা ও শিক্ষক ছিলেন। কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক আকীদাহ, ফিকাহ, বিদআত পরিহার ও তাওহীদের গুরুত্ব নিয়ে বহু দারস প্রদান করেছেন। সিরিয়া, জর্ডান, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েতসহ বহু দেশে দাওয়াতী সফর করেছেন। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে তিনি দুইবার কারাগারে অন্তরীণ হন, কিন্তু সেখানে থেকেও তিনি গবেষণার কাজ চালিয়ে যান এবং বহু হাদীস গ্রন্থের তাখরীজ সম্পন্ন করেন।
চিন্তাধারা ও বৈশিষ্ট্য
শাইখ আল-আলবানীর পুরো চিন্তাধারা আবর্তিত হয়েছে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহকে সর্বোচ্চ দলীল হিসেবে গ্রহণ করার মধ্যে। তিনি অন্ধ অনুকরণকে নিরুৎসাহিত করে প্রমাণনির্ভর ইসলামী চর্চার আহ্বান জানিয়েছেন। সালাফে সালেহীনের পথ অনুসরণের প্রতি তাঁর উৎসাহ ছিল অনন্য, যা পরবর্তী প্রজন্মের আলেমদের মধ্যেও ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে।
গ্রন্থসমূহ ও উল্লেখযোগ্য অবদান
তাঁর রচিত, সংকলিত, তাখরীজকৃত ও তাহকীক করা গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক। ‘সিলসিলাতুল আহাদীসিস সাহীহাহ’, ‘সিলসিলাতুল আহাদীসিয যাঈফাহ’, ‘ইরওয়াউল গালীল’, বিভিন্ন সুনান গ্রন্থের সহীহ ও যঈফ সংস্করণ, ‘আহকামুল জানায়েয’, ‘জিলবাবুল মারআতিল মুসলিমাহ’—এসব বই হাদীস গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
“সালাফি চিন্তার পুনর্জাগরণে আলবানীর গ্রন্থসমূহ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছে।”
প্রভাব, মৃত্যু ও উত্তরাধিকার
বিশ্বজুড়ে হাদীস গবেষণা, আকীদাহ সংশোধন এবং সুন্নাহভিত্তিক ইবাদত প্রচারে আল-আলবানীর অবদান অসাধারণ। লক্ষাধিক ছাত্র-অনুসারী, শতাধিক গ্রন্থ এবং তাঁর অনন্য গবেষণা পদ্ধতি আজও ইসলামী জগতে পথপ্রদর্শক। ১৯৯৯ সালের ২ অক্টোবর জর্ডানের আম্মানে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যু মুসলিম বিশ্বে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছিল, তবে তাঁর রেখে যাওয়া ইলম আজও উম্মাহকে আলোকিত করছে।
আরও পড়ুন
👉 হাদিস গ্রন্থসমূহ
👉 উইকিপিডিয়া
সংগ্রহ: বইগুলি আপনার ভালো লাগলে দয়াকরে নিকটবর্তী লাইব্রেরী থেকে ক্রয় করুন।
আবার ভিজিট করবেন !!! ধন্যবাদ 💚





