
⚔️ ইসলাম মানবজাতির জন্য আল্লাহ তায়ালার মনোনীত একমাত্র জীবন ব্যবস্থা। এর প্রবর্তক মহানবী হযরত মুহাম্মাদ ﷺ-কে আল্লাহ সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন। কিন্তু ইসলামের সূচনালগ্ন থেকেই বিদ্বেষপূর্ণ অমুসলিম গোষ্ঠীগুলো এই সত্যদীনের বিরোধিতা করে আসছে। বিশেষত, ইউরোপীয় উপনিবেশবাদের সময় যখন মুসলিম বিশ্ব দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তখন খ্রিষ্টান মিশনারীরা শিক্ষা, রাজনীতি ও সংস্কৃতির মাধ্যমে ইসলামী সভ্যতাকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
উনবিংশ শতকে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের সময় খ্রিষ্টান পাদ্রীরা ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচার শুরু করে। তারা মুসলমানদের বিশ্বাস দুর্বল করার জন্য ইংরেজি শিক্ষা, ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তা ও বিকৃত ইতিহাসের প্রচার চালায়। তাদের অন্যতম প্রচারণা ছিল — ইসলাম, কুরআন ও মহানবী ﷺ-কে নিন্দা করে এমন গ্রন্থ রচনা। এই সময় খ্রিষ্টান ধর্মপ্রচারক মিঃ কার্ল গোটলেব ফান্ডার ১৮২৯ সালে “মীযানুল হক” (Scale of Truth) নামে একটি বই লেখেন, যাতে ইসলাম ও নবী করিম ﷺ সম্পর্কে ভয়ংকর অপপ্রচার ছড়ানো হয়।
এই বইয়ে বলা হয়, ইসলামী শিক্ষা ও কুরআনের দাবিগুলো “অযৌক্তিক” এবং ইসলাম “সভ্যতার প্রতিবন্ধক”—এমন জঘন্য দাবি তুলে মুসলিম সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। পাদ্রীরা এমনও বলতে শুরু করেছিল যে, তাদের যুক্তিগুলোর জবাব কোনো মুসলিম আলেম দিতে পারবে না।
ইযহারুল হক রচনার পটভূমি
এই প্রেক্ষাপটে মুসলিম উম্মাহর সম্মান রক্ষায় উঠে আসেন এক অগ্নিমূর্তি আলেম — আল্লামা রাহমাতুল্লাহ কীরানবী (রহঃ)। তিনি একজন অসাধারণ গবেষক, বক্তা ও বিতার্কিক ছিলেন। তিনি শুধু ইসলামি শাস্ত্রেই পারদর্শী ছিলেন না, বরং বাইবেল, হিব্রু ভাষা এবং খ্রিষ্টান ধর্মতত্ত্বেও গভীর জ্ঞান রাখতেন। তিনি খ্রিষ্টান মিশনারীদের যুক্তির জবাব দিতে এক ঐতিহাসিক বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে সেই গবেষণার ফলাফল হিসেবে রচনা করেন “ইযহারুল হক” (সত্যের বিজয়)।
এই বইটি মীযানুল হক-এর প্রতিউত্তর হিসেবে লেখা হলেও এটি শুধু প্রতিরক্ষামূলক নয়; বরং এটি ইসলামী যুক্তিতর্ক, ইতিহাস ও ধর্মতত্ত্বের এক মৌলিক গ্রন্থ।
উদ্ধৃতি (সংক্ষিপ্ত): “ইযহারুল হক কেবল এক বিতর্কগ্রন্থ নয়; এটি সত্য ও মিথ্যার মধ্যে চিরন্তন সংগ্রামের এক উজ্জ্বল দলিল।”
বইটির কাঠামো ও আলোচ্য বিষয়
“ইযহারুল হক” দুই খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম খণ্ডে লেখক বাইবেলের ইতিহাস, বিকৃতি, অনুবাদ ও অসঙ্গতি বিশ্লেষণ করেন। দ্বিতীয় খণ্ডে তিনি ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব ও কুরআনের অলৌকিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। তিনি পাদ্রীদের উদ্ধৃতি দিয়েই প্রমাণ করেছেন যে, খ্রিষ্ট ধর্মগ্রন্থে অসংখ্য সাংঘর্ষিক বর্ণনা রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, এক অধ্যায়ে তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে বাইবেলের একই ঘটনার দুটি বইয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন বিবরণ পাওয়া যায়।
- বাইবেলের বিকৃতি: পবিত্র গ্রন্থের সংরক্ষণ ও পরিবর্তনের প্রমাণাদি।
- যীশু (আঃ)-এর প্রকৃত মর্যাদা: ইসলামী ও খ্রিষ্টান দৃষ্টিকোণের তুলনামূলক বিশ্লেষণ।
- নবী মুহাম্মাদ ﷺ সম্পর্কে অপপ্রচারের খণ্ডন: যুক্তি ও প্রমাণভিত্তিক প্রতিউত্তর।
- কুরআনের ঐশী প্রমাণ: ভাষাগত, বৈজ্ঞানিক ও ঐতিহাসিক যুক্তি।
- ধর্মতাত্ত্বিক তুলনা: তাওহীদ ও ত্রিত্ববাদ—যুক্তির আদালতে বিচার।
আল্লামা কীরানবীর যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গি
আল্লামা কীরানবী ইসলামের পক্ষে এমনসব তথ্য উপস্থাপন করেন যা পশ্চিমা গবেষকরাও স্বীকার করতে বাধ্য হয়। তিনি যুক্তি, বিশ্লেষণ এবং ধর্মীয় ইতিহাসকে সমন্বিত করে ইসলামের সত্যতাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর যুক্তির ভিত্তি ছিল কেবল ধর্মীয় নয়, বরং দর্শন, ইতিহাস ও ন্যায়ের মাপকাঠিতেও টেকসই।
তিনি বলেন — “সত্য ধর্মের প্রমাণ লুকানো যায় না, কারণ সত্য নিজেই তার সাক্ষ্য দেয়।” এই দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমেই তিনি একদিকে মুসলিম সমাজকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলেন, অন্যদিকে খ্রিষ্টান মিশনারীদের কপট যুক্তিকে ধ্বংস করে দেন।
বইটির প্রভাব ও উত্তরাধিকার
“ইযহারুল হক” প্রকাশের পর শুধু ভারতবর্ষ নয়, সমগ্র মুসলিম বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। মিশর, তুরস্ক, আরব এবং আফ্রিকার বহু ইসলামী প্রতিষ্ঠান এটি পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে। পরবর্তীতে আরবি, উর্দু, ইংরেজি, তুর্কি ও বাংলা সহ বহু ভাষায় অনূদিত হয়।
আধুনিক ইসলামী গবেষকরা একে ইসলাম ও খ্রিষ্টান ধর্মতত্ত্বের মধ্যে “তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের প্রথম প্রামাণ্য দলিল” হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আজও এটি মিশনারী তৎপরতার জবাব দিতে এক প্রামাণ্য রেফারেন্স।
কেন পড়বেন এই বইটি?
এই বই কেবল ধর্মীয় তর্ক নয়, বরং এটি চিন্তা ও বিশ্বাসের যুদ্ধক্ষেত্রে সত্যের বিজয়ের দলিল। যারা ইসলাম নিয়ে গবেষণা করতে চান, যারা ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচারিত অপপ্রচারের জবাব জানতে চান — তাদের জন্য এই গ্রন্থ অপরিহার্য। এটি পাঠ করলে বুঝতে পারবেন, কীভাবে যুক্তি, শাস্ত্র এবং প্রমাণের আলোকে ইসলাম সর্বাধিক সত্য, যৌক্তিক ও মানবিক ধর্ম।
পাঠকগোষ্ঠী ও উপযোগিতা
“ইযহারুল হক” ছাত্র, শিক্ষক, গবেষক, এবং সাধারণ পাঠকের জন্য সমান উপকারী। এটি ইসলামী যুক্তিতর্ক, তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব ও চিন্তাশীল মুসলিম সমাজের জন্য এক অপরিহার্য রেফারেন্স গ্রন্থ। পরিবারে, মাদরাসায় বা আলোচনায় পাঠের পর আলোচনা করার উপযোগী একটি চিন্তাপ্রবণ গ্রন্থ।
রাহমাতুল্লাহ ইবন খলিলুর রহমান কর্তৃক রচিত “ইযহারুল হক — সত্যের বিজয়” pdf বই ডাউনলোড করতে নিচে বইয়ের নামের উপর ক্লিক করুন।
সংগ্রহ: বইগুলি আপনার ভালো লাগলে দয়াকরে নিকটবর্তী লাইব্রেরী থেকে ক্রয় করুন।
আবার ভিজিট করবেন !!! ধন্যবাদ 💚



