
মাওলানা আবু তাহের বর্ধমানী কর্তৃক রচিত ইসলামিক pdf বই ডাউনলোড করতে নিচে বইয়ের নামের উপর ক্লিক করুন।
১। অধঃপতনের অতল তলে
২। ওল্টা বুঝিল রাম ও সাধু সাবধান
৩। কুরআনের আয়াত দ্বারা মোনাজাত ও ও ১০০ দোয়া
৪। পীরতন্ত্রের আজবলীলা
৫। মুসলিম জীবনাদর্শ
✍️ নির্ভীক ইসলামী চিন্তাবিদ | আহলেহাদীছ আলেম | সংস্কারক ও দাঈ
মাওলানা আবু তাহের বর্ধমানী (রহ.) উপমহাদেশের খ্যাতনামা ইসলামী চিন্তাবিদ, সংস্কারক এবং আহলেহাদীছ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক বিশুদ্ধ আকীদা সমাজে প্রতিষ্ঠা করা ছিল তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য। সহজ ভাষায় দাওয়াহ, যুক্তিনির্ভর বক্তব্য এবং প্রতিষ্ঠিত কুসংস্কার—বিশেষত বিদআত ও পীরতন্ত্র—এর বিরুদ্ধে তাঁর দৃঢ় অবস্থান তাঁকে এক অনন্য পরিচিতি এনে দেয়।
“সত্য দ্বীনকে অনুসরণ করাই মুক্তির পথ—মানুষের মতবাদ নয়, আল্লাহর ওহীই চূড়ান্ত মানদণ্ড।” — মাওলানা আবু তাহের বর্ধমানী (রহ.)
জন্ম, পরিবার ও শৈশব
১৯২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোট থানার শিমুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। দ্বীনি পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে অল্প বয়সেই ইসলামী জ্ঞানের প্রতি গভীর আগ্রহ সৃষ্টি হয়। গ্রামীণ সাধারণ পরিবেশেও তিনি শিক্ষার প্রতি এক বিশেষ অনুরাগ প্রদর্শন করেন, যা পরবর্তীকালে তাঁকে একজন বিদগ্ধ আলেম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। শৈশবে কুরআন তিলাওয়াত, নাহু-সরফ, হাদিস ও ফিকহের প্রাথমিক বিদ্যা অর্জনই ছিল তাঁর জ্ঞানার্জনের ভিত্তি।
শিক্ষাজীবন ও ধর্মীয় গভীরতা
প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি উচ্চতর ইসলামী জ্ঞান অর্জনে নিজেকে নিবেদিত করেন। বিশেষভাবে তিনি কুরআন ও সহীহ হাদিসের ওপর গভীর অধ্যয়ন করেন এবং আকীদাহ—বিশেষত তাওহীদ—বিষয়ে সুদৃঢ় ধারণা গড়ে তোলেন। তাঁর লেখনী ও বক্তব্যে কুরআন-হাদিসের দলীল ছিল সর্বদা প্রধান। পীরপন্থা, কুসংস্কার ও বিদআতের বিরুদ্ধে তিনি যুক্তিসম্মত এবং দলীলভিত্তিক বক্তব্য প্রদান করতেন।
দাওয়াহ ও ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনে ভূমিকা
মাওলানা আবু তাহের বর্ধমানী (রহ.)-এর দাওয়াহ ছিল কঠোর সত্যভিত্তিক এবং স্পষ্ট বক্তব্যসমৃদ্ধ। তিনি বিশ্বাস করতেন যে মুসলিম সমাজের পতনের মূল কারণ হলো বিদআত, শিরক এবং ভুল আকীদার প্রসার। তাই তিনি নিরলসভাবে ইসলামের মূল উৎস—কুরআন ও সুন্নাহ—এর দিকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাতেন।
যুক্তিনির্ভর বক্তৃতা, সুললিত ভাষা এবং ধৈর্যশীল উপস্থাপন তাঁর দাওয়াহকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
“বিদআত হলো দ্বীনের মুখোশ পরে আগত বিপথগামীতা, আর এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব।”
বাংলাদেশে হিজরত ও কর্মসূচি
১৯৬৪ সালে তিনি বাংলাদেশে হিজরত করেন। এখানে এসে তিনি ইসলামী দাওয়াহ ও গবেষণাকর্মে নিজেকে আরও সক্রিয় করে তোলেন। বিভিন্ন মাহফিল, দরস, বক্তব্য ও লেখার মাধ্যমে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক জীবনব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তাঁর দাওয়াহে সমাজের বহু মানুষ বিদআতপূর্ণ চর্চা পরিত্যাগ করে শুদ্ধ আকীদা অনুসরণে উদ্বুদ্ধ হয়। বাংলাদেশে আহলেহাদীছ চিন্তাধারার প্রসারেও তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
রচনাসমূহ
তাঁর লেখাসমূহ গভীর গবেষণানির্ভর, প্রাঞ্জল এবং সাধারণ মানুষের জন্য সহজবোধ্য ছিল। নিচে তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থের নাম দেওয়া হলো:
- অধঃপতনের অতল তলে
- আহলেহাদীছ মতবাদ ও প্রচলিত বিভ্রান্তি
- ওল্টা বুঝিল রাম ও সাধু সাবধান
- কুরআনের আয়াত দ্বারা মোনাজাত ও ১০০ দোয়া
- পীরতন্ত্রের আজবলীলা
- মুসলিম জীবনাদর্শ
- সত্যের আলো
এই গ্রন্থগুলো মুসলিম সমাজকে শিরক-বিদআত থেকে মুক্ত হয়ে তাওহীদ ও সুন্নাহর পথে ফিরে আসতে সহায়তা করে। তাঁর লেখনী আজও দাওয়াহের ময়দানে শক্তিশালী দলীল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ব্যক্তিত্ব, চরিত্র ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য
- নির্ভীক সত্যবাদী আলেম
- বিদআত ও শিরকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
- সহজ ভাষার যুক্তিনির্ভর বক্তা
- শুদ্ধ আকীদা প্রচারের অগ্রদূত
- সুন্নাহভিত্তিক জীবনধারা প্রতিষ্ঠার প্রচারক
উপসংহার
মাওলানা আবু তাহের বর্ধমানী (রহ.) ছিলেন এক যুগস্রষ্টা ইসলামী চিন্তাবিদ, যিনি তাঁর পুরো জীবন ব্যয় করেছেন শিরক-বিদআতের বিরোধিতা, তাওহীদ প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম সমাজকে সত্য দ্বীনের দিকে আহ্বান করার মাধ্যমে। তাঁর দাওয়াহ, গবেষণা ও সাহসী লেখনী আগামী প্রজন্মের জন্য আদর্শ হয়ে থাকবে।
আরও পড়ুন
👉 ইসলামী বইয়ের তালিকা
👉 ইসলামি উপন্যাস
সংগ্রহ: বইগুলি আপনার ভালো লাগলে দয়াকরে নিকটবর্তী লাইব্রেরী থেকে ক্রয় করুন।
আবার ভিজিট করবেন !!! ধন্যবাদ 💚





