
এ জেড এম শামসুল আলম কর্তৃক রচিত ইসলামিক pdf বই ডাউনলোড করতে নিচে নামের উপর ক্লিক করুন।
১। আফগানিস্তান ও তালিবান
২। ক্রীতদাস থেকে সাহবী
৩। ছোটদের ইসলাম
৪। ছোটদের মহানবী
৫। তাবলীগ ও ফযিলত
৬। মহানবী ও শীশু
৭। মুসলিম সঙ্গীত চর্চার সোনালী ইতিহাস
৮। হযরত আলির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক চিঠি
✍️ বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ | প্রশাসক | ইসলামী চিন্তাবিদ | শিক্ষাবিদ
এ. জেড. এম. শামসুল আলম (জন্ম: ১৯৩৭, কুমিল্লা) বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল অর্থনীতিবিদ, প্রশাসক ও ইসলামি চিন্তাবিদ। তাঁর বহুমাত্রিক কর্মজীবন সরকারি প্রশাসন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, শিক্ষা ও ইসলামী অর্থনীতির ক্ষেত্রে গভীর অবদান রেখেছে। তিনি ছিলেন একাধারে প্রাজ্ঞ আমলা, শিক্ষানুরাগী ও ইসলামী সমাজব্যবস্থার একজন দৃঢ় বিশ্বাসী।
“প্রশাসন তখনই সফল, যখন তা ন্যায়, জ্ঞান ও সততার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।” – এ. জেড. এম. শামসুল আলম
প্রারম্ভিক জীবন ও শিক্ষা
১৯৩৭ সালে কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার আদ্রা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এ. জেড. এম. শামসুল আলম। তাঁর পিতা মরহুম আব্দুল গফুর চৌধুরী ছিলেন একজন সৎ, নীতিবান ও সমাজপ্রেমী মানুষ। ছোটবেলা থেকেই তিনি অধ্যবসায়, মেধা ও নৈতিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি ১৯৫২ সালে মেট্রিকুলেশন এবং ১৯৫৪ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বি.এ (অনার্স) ও ১৯৫৮ সালে এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেন। উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতায় ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের উইলিয়াম কলেজ থেকে M.A. in Development Economics ডিগ্রি লাভ করেন।
“শিক্ষা শুধু ডিগ্রি নয়, এটি চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির উন্নয়নের চাবিকাঠি।” – এ. জেড. এম. শামসুল আলম
শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক কর্মজীবন
এ. জেড. এম. শামসুল আলম ছিলেন একজন অভিজ্ঞ প্রশাসক ও শিক্ষাবিদ। **প্রাথমিক পেশা ও শিক্ষকতা:** সিভিল সার্ভিসে যোগদানের পূর্বে ১৯৬৩ সালে তিনি ঢাকা কলেজ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা করেন। **প্রশাসনিক কর্মজীবন:** ১৯৬৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের সরকারি প্রশাসনে ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এসডিও, এডিসি, উপ-সচিব, যুগ্ম-সচিব এবং সচিব পর্যায়ে প্রায় ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। **শিক্ষা পরামর্শদাতা:** তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও দারুল এহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল, সিনেট ও সিন্ডিকেটের সদস্য ছিলেন। শিক্ষাব্যবস্থায় আধুনিকতা ও নৈতিকতার সমন্বয় সাধনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
আন্তর্জাতিক অবদান ও শিক্ষা সফর
তিনি বিশ্বের বহু গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
**উল্লেখযোগ্য সম্মেলনসমূহ:**
- খাদ্য ও কৃষি সম্মেলন (FAO), রোম – ১৯৭৭
- বিশ্ব খাদ্য সম্মেলন, ম্যানিলা, ফিলিপাইন – ১৯৭৭
- আন্তর্জাতিক মুসলিম শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্মেলন, ঢাকা – ১৯৮০
- আন্তর্জাতিক কুরআন সম্মেলন, ক্যানবেরা, অস্ট্রেলিয়া – ১৯৮১
- ইসলামে মানবাধিকার সম্মেলন, জেদ্দা – ১৯৮১
- ‘সর্বজনীন ইসলাম’-এর উপর আন্তর্জাতিক সেমিনার, শ্রীলংকা – ১৯৮২
জনাব শামসুল আলম শিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে প্রায় ৪২টি দেশ সফর করেন, যার মধ্যে মিশর, ইরান, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক, জর্ডান, মরক্কো এবং ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, হেনলি ও বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন উল্লেখযোগ্য।
“শিক্ষা সফর দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করে, অভিজ্ঞতা দেয় এবং নীতি প্রণয়নে নতুন আলোকপাত করে।” – এ. জেড. এম. শামসুল আলম
সংগঠন, সমাজসেবা ও ইসলামী অর্থনীতি
তিনি ইসলামী একাডেমী, বাংলা একাডেমী, নজরুল একাডেমী, আবুজর গিফারী (রা.) সোসাইটি এবং মসজিদ সোসাইটির আজীবন সদস্য ছিলেন। **ইসলামী অর্থনীতি ও উন্নয়ন চিন্তা:** ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক হিসেবে তিনি বিশ্বকোষ প্রকল্প, ইমাম প্রশিক্ষণ প্রকল্প, ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মসজিদ পাঠাগার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। তাঁর উদ্যোগে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড ও ইসলামী কমার্শিয়াল ইনস্যুরেন্স প্রতিষ্ঠিত হয়, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
উপসংহার ও উত্তরাধিকার
এ. জেড. এম. শামসুল আলম ছিলেন একাধারে চিন্তাবিদ, অর্থনীতিবিদ ও প্রশাসক, যিনি জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন করেছেন। তাঁর শিক্ষা, কর্ম ও ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
“যে ব্যক্তি নীতিকে জীবনের মূল ভিত্তি বানায়, সে-ই সমাজে স্থায়ী প্রভাব রেখে যায়।”
আরও পড়ুন
👉 হুসাইন বিন সোহরাব
👉 শফীউদ্দীন সরদার
সংগ্রহ: বইগুলি আপনার ভালো লাগলে দয়াকরে নিকটবর্তী লাইব্রেরী থেকে ক্রয় করুন।
আবার ভিজিট করবেন !!! ধন্যবাদ 💚




