
মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ কর্তৃক রচিত ইসলামিক pdf বই ডাউনলোড করতে নিচের নামের উপর ক্লিক করুন।
১। আসহাবে রাসুলের কাব্য প্রতিভা
২। আসহাবে রাসুলের জীবনকথা
৩। খোলাফায়ে রাশেদীন
৪। তাবিঈদের জীবনকথা
৫। রাসূলুল্লাহর শিক্ষাদান পদ্ধতি
৬। সুন্নাতু রাসূলিল্লাহ সাঃ
✍️ প্রখ্যাত ইসলামি গবেষক | শিক্ষাবিদ | লেখক | দাওয়াহ কর্মী
ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক ও ইসলামি চিন্তাবিদ। তিনি ইসলামের জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং দাওয়াহ কার্যক্রমে সক্রিয় থেকে মুসলিম সমাজে বিশেষ অবদান রেখেছেন। শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে ইসলামি সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে শিক্ষকতা করছেন।
“জ্ঞানার্জন কেবল নিজের জন্য নয়; বরং তা সমাজে প্রয়োগ করাই হলো প্রকৃত আলেমের কাজ।” – ড. আবদুল মাবুদ
প্রারম্ভিক জীবন
ড. মাবুদ যশোর জেলার আজমপুর গ্রামে এক ধর্মপ্রাণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আল-হাজ্জ মুহাম্মদ ইজ্জাতুল্লাহ ছিলেন সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও ধার্মিক মানুষ এবং মা সাবেরা খাতুন ছিলেন শিক্ষানুরাগী নারী। শৈশব থেকেই তিনি ধর্মীয় পরিবেশে বড় হয়েছেন এবং ইসলামি জ্ঞানার্জনের প্রতি গভীর আগ্রহী ছিলেন।
শিক্ষাজীবন
প্রথমে আজমপুরের পার্শ্ববর্তী দরগাহপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। ১৯৫৭ সালে ৪র্থ শ্রেণি পাসের পর ১৯৫৮ সালে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার খ্যাতনামা লাউড়ী-রামনগর সিনিয়র মাদ্রাসায় ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৬৫ সালে দাখিল, ১৯৬৭ সালে আলিম, ১৯৬৯ সালে ফাজিল এবং ১৯৭১ সালে ফরিদপুর জেলার শিবচরের বাহাদুরপুর শরিয়াতিয়া আলিয়া মাদ্রাসা থেকে কামিল (হাদিস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
কর্মজীবন
১৯৮২ সালের ২৫ আগস্ট তিনি মক্কাস্থ আন্তর্জাতিক সংস্থা রাবিতা আল-আলম আল-ইসলামীতে চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৮২ থেকে ১৬ এপ্রিল ১৯৮৫ পর্যন্ত বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টারে গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে ১৯৮৪ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৯৮৫ সালের ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবেও কাজ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা
১৯৮৫ সালের ১৬ এপ্রিল থেকে ১৯৮৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি রাবিতার প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে ভিজিটিং লেকচারার ছিলেন। ১৯৮৭ সালের ১ অক্টোবর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আরবি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি ধারাবাহিকভাবে পদোন্নতি লাভ করেন:
- ১৯৯০ সালের এপ্রিলে সহকারী অধ্যাপক
- ১৯৯৯ সালের আগস্টে সহযোগী অধ্যাপক
- ২০০২ সালের জানুয়ারিতে অধ্যাপক
২০০৬ সালের মে মাস থেকে ২০০৯ সালের ৭ মে পর্যন্ত তিনি আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি একই বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
গবেষণা ও সাহিত্যকর্ম
ড. মাবুদ মূলত আরবি সাহিত্য, ইসলামি গবেষণা ও দাওয়াহ সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন। তার রচনাবলীতে কুরআন, হাদিস, আরবি ভাষা, সাহিত্য এবং সমসাময়িক সমাজে ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি বহু প্রবন্ধ, গবেষণাপত্র ও গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা একাডেমিক মহলে সমাদৃত।
“ইসলামী জ্ঞানচর্চা জাতিকে নৈতিক শক্তিতে সমৃদ্ধ করে; এটি মানবতার কল্যাণের পথ প্রশস্ত করে।” – ড. আবদুল মাবুদ
চিন্তাধারা
ড. মাবুদ বিশ্বাস করেন ইসলাম শুধু একটি বিশ্বাসব্যবস্থা নয়; বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। তার মতে, মুসলিম সমাজকে উন্নতির পথে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষা, গবেষণা ও দাওয়াহ কার্যক্রমকে সমানভাবে অগ্রসর করা জরুরি। তার চিন্তাধারা তরুণ প্রজন্মকে জ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করে এবং ইসলামের প্রতি অনুরাগী করে তোলে।
প্রভাব
শিক্ষক, গবেষক ও লেখক হিসেবে তিনি বাংলাদেশের শিক্ষা জগতে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের উন্নয়নে তার অবদান স্মরণীয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা রাবিতা আল-আলম আল-ইসলামীর মাধ্যমে তিনি বিশ্বমুসলিম সমাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন। তার ছাত্ররা বর্তমানে দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত এবং ইসলামী শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন।
উপসংহার
ড. মুহাম্মদ আবদুল মাবুদ একজন নিবেদিতপ্রাণ ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তার জীবন ইসলামী শিক্ষা, গবেষণা ও সমাজসেবায় অটল নিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি প্রমাণ করেছেন, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। বাংলাদেশের ইসলামি শিক্ষা ও গবেষণার ইতিহাসে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আরও পড়ুন
👉 ইমাম ইবনে তাইমিয়া
👉 এ কে এম নাজির আহমদ
সংগ্রহ: বইগুলি আপনার ভালো লাগলে দয়াকরে নিকটবর্তী লাইব্রেরী থেকে ক্রয় করুন।
আবার ভিজিট করবেন !!! ধন্যবাদ 💚





