
📜 মানবজাতির ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায় হলো নবী-রাসুলদের জীবন ও সংগ্রাম। তাদের জীবনগাথা কেবল কাহিনি নয়, বরং এটি ঈমান, ধৈর্য, ত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থার এক আলোকিত দৃষ্টান্ত। প্রখ্যাত ইসলামী পণ্ডিত ও ঐতিহাসিক মাওলানা হিফযুর রহমান সিওহারবি রচিত “কাসাসুল কুরআন” গ্রন্থে কুরআনের আয়াতসমূহের আলোকে নবীদের জীবন, তাদের জাতির অবস্থা এবং আল্লাহর নির্দেশের বাস্তব প্রতিফলন সুচারুভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি উপমহাদেশের ইসলামী সাহিত্যে এক অনন্য গবেষণাধর্মী কীর্তি।
কুরআনে বর্ণিত ঘটনাগুলো পূর্ববর্তী ধর্মগ্রন্থগুলোতেও ছিল, তবে সেগুলো সময়ের সঙ্গে বিকৃত হয়েছে। কুরআন এসেছে সত্যের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে, মানবজাতিকে স্মরণ করাতে— “এই গল্পগুলো শুধুই ইতিহাস নয়, এগুলো শিক্ষা ও উপদেশ।” এই মর্মবাণীই বইটির কেন্দ্রীয় আত্মা, যা প্রমাণ করে যে কুরআনের মাধ্যমেই নবীদের জীবনের প্রকৃত ও বিশুদ্ধ ইতিহাস সংরক্ষিত আছে।
📖 গ্রন্থ পরিচিতি ও মূল বৈশিষ্ট্য
মাওলানা সিওহারবি এই গ্রন্থে নবীদের জীবনীকে দলিল, যুক্তি ও হিকমাহর (প্রজ্ঞা) সঙ্গে বর্ণনা করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন, কুরআনের প্রতিটি কাহিনি শুধুমাত্র অতীত নয়, বরং বর্তমানের জন্যও দিকনির্দেশক। কাসাসুল কুরআন কেবল ধর্মীয় সাহিত্যের অংশ নয়—এটি একটি চিন্তাশীল তাফসিরমূলক কাজ, যা পাঠককে চিন্তা, আত্মসমালোচনা ও বিশ্বাসের নতুন স্তরে পৌঁছে দেয়।
আল্লাহ তা’আলা বলেন: ﴿لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِّأُولِي الْأَلْبَابِ﴾
— “তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমানদের জন্য রয়েছে শিক্ষণীয় বিষয়।” (সূরা ইউসুফ: ১১১)
- কুরআনের গল্পসমূহের বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা: বিকৃত ধর্মগ্রন্থের বিপরীতে কুরআনের প্রকৃত কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- ইতিহাস ও বাস্তবতার সংযোগ: নবীদের যুগের বাস্তব অবস্থা, জাতির মনোবৃত্তি ও পরিণতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
- উপদেশ ও নৈতিক বার্তা: প্রতিটি কাহিনির শেষে উপদেশের অংশ বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
- ইসরাইলি কল্পকাহিনি খণ্ডন: মিথ্যা ঐতিহ্যের বিরোধিতা করে কুরআনের সত্যতা প্রমাণ করা হয়েছে।
🕌 গঠন ও বিষয়বস্তুর বিন্যাস
“কাসাসুল কুরআন” দশটি মূল খণ্ডে বিভক্ত (বাংলা অনুবাদ বিভিন্ন প্রকাশনীতে খণ্ড সংখ্যায় ভিন্নতা রয়েছে), প্রতিটি খণ্ডে নবীদের জীবন ও শিক্ষা সুচারু ধারাবাহিকতায় সাজানো হয়েছে। এটি একটি বৃহৎ ও সবিস্তার গবেষণা কর্ম।
- ১ম খণ্ড: আদম (আঃ) থেকে মুসা (আঃ) পর্যন্ত ১৩ জন নবীর জীবনী (আংশিক)।
- ২য় খণ্ড: মুসা (আঃ)-এর অবশিষ্ট জীবন ও তাঁর জাতির কাহিনি।
- ৩য় খণ্ড: দাউদ, সুলাইমান, আইয়ুব, ইউনুসসহ ১২ জন নবীর কাহিনি।
- ৪র্থ খণ্ড: কুরআনে বর্ণিত ১২টি ঐতিহাসিক ঘটনা যেমন আসহাবে কাহাফ, আসহাবে ফিল, যুল কারনাইন প্রমুখ।
- ৫ম ও ৬ষ্ঠ খণ্ড: ঈসা (আঃ)-এর জীবন ও মিশন এবং অন্যান্য নবীদের সংক্ষিপ্ত আলোচনা।
- ৭ম – ১০ম খণ্ড: মুহাম্মদ (ﷺ)-এর জীবন ও মিশন — ইসলামী ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্ব (সীরাত অংশ)।
🌿 গবেষকদের মূল্যায়ন ও উপযোগিতা
মাওলানা হিফযুর রহমান সিওহারবি (রহ.) এই গ্রন্থে কেবল তথ্যের সমাবেশ ঘটাননি, বরং তাফসির, ইতিহাস ও ফিকহের এক গভীর সমন্বয় ঘটিয়েছেন। এর ফলে গ্রন্থটি গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ ধর্মপ্রাণ পাঠক সকলের জন্য উপযোগী হয়েছে।
বাহজাত নাজমি (সচিব, মাওলানা হিফজুর রহমান একাডেমি) বলেন: “ইসলামের নবীদের নিয়ে লিখিত কাসাসুল কুরআনই হল উপমহাদেশের একমাত্র প্রামাণিক ও গবেষণামূলক গ্রন্থ। যারা লেখকের মতাদর্শে ভিন্ন, তারাও একমত—এটি পাঠযোগ্য ও চিন্তাজাগানিয়া এক কীর্তি।”
কেন পড়বেন এই গ্রন্থটি?
“কাসাসুল কুরআন” শুধু নবী-রাসূলদের জীবনী জানার জন্য নয়, বরং তাদের জীবনের আলোকে বর্তমান জীবনের সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজে বের করার জন্য অপরিহার্য।
- কুরআনের মাধ্যমে মানব ইতিহাসের ধারাবাহিকতা ও আল্লাহর একত্ববাদের বার্তা উপলব্ধি করতে।
- নবীদের ধৈর্য, নেতৃত্বের কৌশল ও দাওয়াতের পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে।
- পশ্চিমা ও ইসরাইলি কল্পকাহিনির বিপরীতে ইসলামের বিশুদ্ধ ইতিহাস জানতে।
- ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ঈমান ও তাকওয়ার ভিত্তি মজবুত করতে।
এই গ্রন্থটি প্রতিটি পারিবারিক লাইব্রেরির জন্য একটি অমূল্য সম্পদ এবং দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের জন্য এটি এক অবিস্মরণীয় পাথেয়।
📘 মাওলানা হিফযুর রহমান সিওহারবি রচিত ‘কাসাসুল কুরআন’ PDF বই ডাউনলোড করতে নিচে বইয়ের নামের উপর ক্লিক করুন
- কাসাসুল কুরআন ১ম খণ্ড
- কাসাসুল কুরআন ২য় খণ্ড
- কাসাসুল কুরআন ৩য় খণ্ড
- কাসাসুল কুরআন ৪র্থ খণ্ড
- কাসাসুল কুরআন ৫ম খণ্ড
- কাসাসুল কুরআন ৬ষ্ঠ খণ্ড
- কাসাসুল কুরআন ৭ম খণ্ড
- কাসাসুল কুরআন ৮ম খণ্ড
- কাসাসুল কুরআন ৯ম খণ্ড
- কাসাসুল কুরআন ১০ম খণ্ড
সংগ্রহ: বইগুলি আপনার ভালো লাগলে দয়াকরে নিকটবর্তী লাইব্রেরী থেকে ক্রয় করুন।
আবার ভিজিট করবেন !!! ধন্যবাদ 💚




