আবদুল মান্নান তালিব: Abdul Mannan Talib Books

  আবদুল মান্নান তালিব কর্তৃক রচিত ইসলামিক pdf বই অনলাইনে পড়তে নামের উপর এবং ডাউনলোড করতে এই      চিহ্নের ওপর ক্লিক করুন।
১১। মজার গল্প      
১২। মা আমার মা      

লেখক পরিচিতি

আব্দুল মান্নান তালিব ১৯৩৬ সনের ১৫ মার্চ চবিবশ পরগণা জেলার অর্জুনপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ১৯৫১ সনে শিউড়ির ‘জিয়াউল ইসলাম' পত্রিকায়। স্বরচিত কবিতা ছাড়া কাব্যানুবাদে তাঁর যথেষ্ট পারদর্শিতা পরিলক্ষিত হয়। লাহোর থাকাকালে নজরুল ইসলাম ও ফররুখ আহমদের বহু কবিতা উর্দু ভাষায় অনুবাদ করে সেখানকার পত্রিকায় প্রকাশ করেন। ইকবালের ফার্সি কবিতাগ্রন্থ ‘রমূযে বেখূদী' বাংলায় অনুবাদ ও ব্যাখ্যা সহকারে প্রকাশ করেন। করাচীর ইকবাল একাডেমীর তত্ত্বাবধানে ইকবালের অন্য আরো একটি কাব্য ও বহু সংখ্যক কবিতার অনুবাদ করেন। পরবর্তীতে তিনি আল-কুরআনের বিভিন্ন সূরার স্বচ্ছন্দ বাংলা অনুবাদ করে সাপ্তাহিক ‘জাহানে নও' ও স্বসম্পাদিত মাসিক ‘পৃথিবী' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করেন। তবে মোটামুটি ১৯৫১-৭১ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় বিশ বছর তিনি কাব্য-চর্চায় সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তীতে এক্ষেত্রে ভাটা পড়ে, কারণ তখন তিনি মননশীল রচনা, গদ্যানুবাদ, গবেষণা ও শিশু-কিশোর সাহিত্য-চর্চায় অধিক মনোনিবেশ করেন।

আব্দুল মান্নান তালিবের কবি-খ্যতি খুব একটা বিস্তৃতি লাভ করেনি। এর দু'টো কারণ হতে পারে। প্রথমত তিনি মাত্র নির্দিষ্ট কয়েকটি পত্র-পত্রিকায় (যেগুলোর প্রচার সংখ্যাও দুর্ভাগ্যবশত নানা কারণে সীমিত) লিখেছেন। ফলে বৃহত্তর পাঠক-সমাজ তাঁকে জানার তেমন সুযোগ পায়নি। দ্বিতীয়ত কম লিখলেও তাঁর রচিত কবিতা বা কাব্যানুবাদের সংখ্যা একেবারে কম নয়, অথচ এ যাবত তাঁর একটি কবিতার বইও প্রকাশিত হয়নি। একাধারে দারিদ্র্য এবং কাব্যগ্রন্থ প্রকাশে প্রকাশকদের অনীহাই সম্ভবত এজন্য দায়ী। ফলে তাঁর অনেক কবিতা শুধুমাত্র পত্র-পত্রিকার কালো কালো অক্ষরের জালে আবদ্ধ হয়ে আছে। এখন তাঁর সব কবিতা সংগ্রহ করা সম্ভব কিনা জানি না, কিন্তু সংগ্রহের চেষ্টা করা উচিত এবং তা প্রকাশের ব্যবস্থা হওয়া প্রয়োজন। এ কাজের মাধ্যমে পাঠক সমাজ কবি আব্দুল মান্নান তালিবের সঠিক পরিচিতি লাভে সক্ষম হবে।

কালক্রমে চর্চার অভাবে আব্দুল মান্নান তালিবের কবি-খ্যাতি আজ বিলুপ্ত প্রায়। তবে তিনি শুধু কবি নন, সাংবাদিক, লেখক, গবেষক, অনুবাদক, সম্পাদক, সংগঠক ও সর্বোপরি একজন চিন্তাবিদ হিসাবে আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতি ও চিন্তার জগতে অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন। অর্ধ-শতাব্দীর অধিক কালব্যাপী তিনি সাংবাদিকতার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৫৭ সনে লাহোরে উর্দু দৈনিক ‘রোজনামা তাসনীম'-এ সাব এডিটর হিসেবে তাঁর সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি। ১৯৫৯ সনে লাহোর থেকে ঢাকায় এসে তিনি দৈনিক ‘ইত্তেহাদ' পত্রিকায় সাব-এডিটর হিসাবে কাজ শুরু করেন। ১৯৬০ সনে ইত্তেহাদ বন্ধ হয়ে গেলে সাপ্তাহিক ‘জাহানে নও' পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসাবে কাজ শুরু করেন। ১৯৬২ সনে ‘জাহানে নও'-এর সম্পাদনার দায়িত্ব লাভ করেন। একই সাথে ১৯৭০ এর জানুয়ারীতে  দৈনিক সংগ্রাম আত্মপ্রকাশ করলে সেখানে ‘শাহীন শিবির' নামে শিশু-কিশোর পাতার সম্পাদনার দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৭৩ সনে কলকাতায় ‘সাপ্তাহিক মীযান' প্রকাশে সহায়তা করেন এবং ১৯৭৪ পর্যন্ত এর প্রকাশনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন। একই সাথে ১৯৭৭ সনে ত্রৈমাসিক ও পরবর্তীতে মাসিক কলম এবং ১৯৮১ সনে মাসিক পৃথিবী পুনঃপ্রকাশের পর সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এছাড়া, ১৯৭৭ সনে ত্রৈমাসিক ও পরবর্তীতে মাসিক কলম এবং একই সাথে ১৯৮১ সনে মাসিক পৃথিবী পুনঃপ্রকাশের পর এর সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ১৯৭৭ সনে দৈনিক সংগ্রাম পুনঃপ্রকাশের পর এর শিশুকিশোর পাতার সম্পাদনার সাথে সাথে পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগেও যোগ দেন। মাঝে শিশু বিভাগের দায়িত্ব অন্যের উপর ন্যস্ত হওয়ায় তিনি শুধু ফিচার বিভাগে ‘ইতিহাস ঐতিহ্য' পাতার দায়িত্ব পালন করেন। বাংলা সাহিত্য পরিষদের পরিচালক হিসাবে পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত বার্ষিক ‘বাংলা সাহিত্য পরিষদ পত্রিকা'য় তিনি আজীবন সম্পাদনা করেছেন। এছাড়া, তিনি ইসলামিক ল' রিচার্স  সেন্টার ও লিগ্যাল এইডের মুখপত্র ‘ইসলামী আইন ও বিচার' পত্রিকার আজীবন সম্পাদক ছিলেন। 

আবার ভিজিট করবেন !!! ধন্যবাদ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only