বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম: Muhammad Abdur Rahim Books

  মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহিম কর্তৃক রচিত ইসলামী pdf বই ডাউনলোড করতে নিচে নামের উপর ক্লিক করুন।

মাওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম কর্তৃক সংকলিত
 
লেখক পরিচিতিঃ
 বাংলা ১৩২৫ সালের ৬ মাঘ, ইংরেজি ১৯১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশের পিরোজপুর জেলার কাউখালি থানার অন্তর্গত শিয়ালকাঠি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় পৈতৃক বাড়িতে স্থাপিত মক্তব ও ইবতেদায়ী মাদরাসায়। পরে শর্ষীণা আলিয়া মাদরাসা থেকে আলিম এরপর কলকাতা আলিয়া মাদরাসা থেকে ১৯৪০ সালে ফাযিল এবং ১৯৪২ সালে কামিল (প্রথম শ্রেণী) ডিগ্রি লাভ করে মুমতাজুল মুহদ্দিসীন উপাধিতে ভূষিত হন।
কৈশোরেই মওলানা আবদুর রহীমের মধ্যে সাহিত্য প্রতিভার উন্মেষ ঘটে। তাঁর সাহিত্যিক বড় ভাইয়ের উৎসাহ ও প্রেরণায় তিনি বাংলাভাষা ও সাহিত্যচর্চার প্রতি প্রবলভাবে অনুরক্ত হন। এপর্যায়ে ছোটখাট কিছু পত্র-পত্রিকায় তিনি লেখালেখির কাজও শুরু করেন। সাড়ে ১২ বছর বয়সে তাঁর প্রথম রচনা প্রকাশিত হয়, পটুয়াখালীর একটি স্কুল ম্যাগাজিনে। এরপর কলকাতা আলিয়া মাদরাসায় ফাযিল শ্রেণীতে অধ্যায়নকালে আবুল মনসুর আহমদ সস্পাদিত দৈনিক কৃষক, মওলানা আকরম খাঁ সম্পাদিত দৈনিক আজাদ, সুন্নাতুল জামাত ইত্যাকার পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লেখালেখি করতেন।
১৯৫০ সালে তাঁর প্রথম বই ‘কালেমা তাইয়্যেবা’ প্রকাশিত হয়। এদেশের ইসলামী চিন্তার ক্ষেত্রে এ বইটির প্রকাশনা ছিল একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। কেননা কালেমা তাইয়্যেবা ইসলামের মূলমন্ত্র হলেও এ দেশের সাধারণ জনগণ এ কালেমার সঠিক তাৎপর্য জানতেন না। তারা শুধু একটা মন্ত্রের মতোই এর উচ্চারণ করতেন। এ কারণে কালেমা-বিশ্বাসীদের জীবন ও চরিত্রে তাওহীদী চেতনার কোনো প্রতিফলন ঘটত না।
বাংলা ভাষায় তিনি শুধু ইসলামী সাহিত্যের কলেবরই বৃদ্ধি করেননি, এ ভাষাকে ইসলামী বৈশিষ্ট্যে ম-িত করতেও তিনি অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। চল্লিশের দশক অবধি বাংলা ভাষায় ইসলামী ভাবধারা প্রকাশের উপযোগী কোনো পরিভাষা ছিল না। এর প্রায় সমগ্র পরিভাষাই ছিল শিরক ও পৌত্তলিকতাদুষ্ট। মওলানা আবদুর রহীম নতুন নতুন ইসলামী পরিভাষা উদ্ভাবন করে বাংলা ভাষাকে শিরক ও পৌত্তলিকতার জঞ্জাল থেকে বহুলাংশে মুক্ত করেন এবং ইসলামী সাহিত্যচর্চার পথ সুগম করে তোলেন। তিনিই প্রথম বাংলায় ‘ইসলামী জীবনব্যবস্থা’, ‘ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা’, ‘ইসলামী শাসনতন্ত্র’, ‘ইসলামী অর্থব্যবস্থা’ ইত্যাকার পরিভাষা চালু করেন।
মওলানা আবদুর রহীমের মৌলিক গ্রন্থের সংখ্যা ৭০ এবং অনূদিত গ্রন্থের সংখ্যাও প্রায় ৭০। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ তাঁর মেধা ও প্রতিভার মূল্যায়ন করে ১৯৭৭ ও ১৯৮৩ সালে তাঁকে মৌলিক গবেষণা ও অনুবাদ কর্মের জন্যে দুটি পুরস্কার দিয়েছে।
মওলানা আবদুর রহীমের রাবিতা আল-আলম আল-ইসলামীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের সফল প্রতিনিধিত্ব থেকেই তাঁর এই খ্যাতির পরিধি আমরা কিছুটা আঁচ করতে পেরেছি। আশির দশকের প্রথমার্ধে তাঁর এই খ্যাতির পরিধি আরো বৃহত্তর অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময়ে তিনি বাংলাদেশসহ গোটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ইসলামী সম্মেলন সংস্থার (ওআইসি) অঙ্গ সংগঠন ‘ফিকাহ একাডেমি’র একমাত্র সদস্য নির্বাচিত হন। এ পদটি ছিল অত্যন্ত সম্মানজনক ও দায়িত্বপূর্ণ। ইসলামী শরীয়ার দৃষ্টিতে আধুনিক মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন জটিল সমস্যার যথার্থ বিশ্লেষণ ও তার নির্ভুল সমাধান উদ্ভাবনই ছিল একাডেমির মুখ্য দায়িত্ব। মওলানা আবদুর রহীম এ দায়িত্ব অত্যন্ত সাফল্যের সাথেই পালন করেন এবং এব্যাপারে অনেক সাহসিকতার পরিচয় দেন। পাশ্চাত্য চিন্তাধারার সাথে কোনোরূপ আপস না করে একাডেমির বৈঠকে বিভিন্ন স্পর্শকাতর প্রশ্নে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিকে তিনি অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে তুলে ধরেন।
১৯৪৬ সালে তিনি এ ভূখণ্ডে ইসলামী জীবন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দােলন শুরু করেন এবং সুদীর্ঘ চার দশক ধরে নিরলসভাবে এর নেতৃত্ব দেন । বাংলা ভাষায় ইসলামী জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) শুধু পথিকৃতই ছিলেন না, ইসলামী জীবন দর্শনের বিভিন্ন দিক ও বিভাগ সম্পর্কে এ পর্যন্ত তীর প্রায় ৬০টিরও বেশি। অতুলনীয় গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে।
মৌলিক ও গবেষণামূলক রচনার পাশাপাশি বিশ্বের খ্যাতনামা ইসলামী মনীষীদের রচনাবলি বাংলায় অনুবাদ করার ব্যাপারেও তার কোনো জুড়ি নেই। এসব অনুবাদের মধ্যে রয়েছে মওলানা মওদূদী। (রহ:)-এর বিখ্যাত তফসীর তাফহীমুল কুরআন', আল্লামা ইউসুফ আল-কারযাভী'-কৃত ‘ইসলামের যাকাত বিধান (দুই খণ্ড) ও ইসলামে হালাল হারামের বিধান', মুহাম্মদ কুতুবের বিংশ শতাব্দীর জাহিলিয়াত' এবং ইমাম আবু বকর আল-জাসসাসের ঐতিহাসিক তফসীর ‘আহকামুল কুরআন' । তার অনূদিত গ্রন্থের সংখ্যাও ৬০টিরও উর্ধে। মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি)-র অন্তর্গত। ফিকহ একাডেমীর একমাত্র সদস্য ছিলেন। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সূচিত “আল-কুরআনে অর্থনীতি' এবং ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর ইতিহাস’ শীর্ষক দুটি গবেষণা প্রকল্পেরও সদস্য ছিলেন। প্রথমোক্ত প্রকল্পের অধীনে প্রকাশিত দুটি গ্রন্থের অধিকাংশ প্রবন্ধ৷ তাঁরই রচিত। শেষোক্ত প্রকল্পের অধীনে তাঁর রচিত সৃষ্টিতত্ত্ব ও ইতিহাস দর্শন' নামক গ্রন্থটি এখনও প্রকাশের অপেক্ষায় । মওলানা মুহাম্মদ আবদুর রহীম (রহ) ১৯৭৭ সালে মক্কায় অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্ব ইসলামী শিক্ষা সম্মেলন ও রাবেতা আলমে ইসলামীর সম্মেলন, ১৯৭৮ সালে কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত প্রথম দক্ষিণ-পূর্ণ। এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় ইসলামী দাওয়াত সম্মেলন, একই বছর করাচীতে অনুষ্ঠিত প্রথম এশী। ইসলামী মহাসম্মেলন, ১৯৮০ সালে কলম্বোতে অনুষ্ঠিত আন্তঃপার্লামেন্টারী সম্মেলন এবং ১৯৮২ সালে তেহরানে অনুষ্ঠিত ইসলামী বিপ্লবের তৃতীয় বার্ষিক উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। এই যুগস্রষ্টা মনীষী ১৩৯৪ সনের ১৪ আশ্বিন (১৯৮৭ সালের ১ অক্টোবর) a দুনিয়া ছেড়ে মহান আল্লাহর সন্নিধ্যে চলে গেছেন। (ইন্না-লিল্লা-হি ওয়া ইন্না-ইলাইহি রাজিউন)

আবার ভিজিট করবেন !!! ধন্যবাদ 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷

Whatsapp Button works on Mobile Device only